
কলকাতা: হাতে আর সময় নেই, কয়েকদিন পরেই বঙ্গ ভোটের প্রথম দফা। আর এর আগে বাংলায় এসে বিজেপির হয়ে ভোট প্রচারের ময়দানে নেমে পড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার কাটোয়াতে জনসভা করেন তিনি। এই সভা থেকে ‘অনুপ্রবেশ’ ইস্যু নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে বাঙালিদের মাইনরিটি হতে দেব না’।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার ভোটে ‘অনুপ্রবেশ’ যে একটা বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়াচ্ছে তা একেবারে স্পষ্ট। প্রচারে বার বার অনুপ্রবেশ ইস্যু নিয়ে সরব হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু প্রধানমন্ত্রী না, অমিত শাহও একই বার্তা দিয়েছেন বার বার। প্রধানমন্ত্রী শনিবারের জনসভা থেকে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীদের সরকার চলতে দেবেন?’ ‘পশ্চিমবঙ্গে বাঙালিদের মাইনরিটি হতে দেব না’। এই মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘সবাই অনুপ্রবেশকারী হলে কাদের ভোটে জিতলেন মোদি?’
সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ”BJP সরকার পশ্চিমবঙ্গকে একটা বড় সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে চায়। যারা ভারতে অনুপ্রবেশকারী তাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হবে। আমি সব অনুপ্রবেশকারীদের বলব, নিজের জিনিসপত্র বেঁধে নিন। শুধু এটা নয়, যারা অনুপ্রবেশকারীদের এনেছে, নকল কাগজ বানিয়েছে, এখানকার সরকারি সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে, তাদের সবার হিসেব হবে।”
মোদির মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ” SIR করে প্রায় ৯০ লক্ষের নাম বাদ দিয়েছে। ভোটের আগে করার কী দরকার ছিলো? সবাই যদি অনুপ্রবেশকারী হয়, তবে মোদি জি তুমি কাদের ভোটে জিতেছো? এই লিস্টেই জিতেছো, যেখান থেকে ৯০ লক্ষ নাম বাদ দিয়েছো। তবে তুমি কেন পদত্যাগ করবে না? অমিত শাহ, তুমি কেন পদত্যাগ করবে না? তোমাদের সরকার কেন পদত্যাগ করবে না? বাংলায় ভোটে জিততে পারবেনা বলে লোকের উপর হামলা করছে।”
উল্লেখ্য, বাংলার মানুষকে সমস্যায় ফেলছে বহিরাগতরা, এমন দাবি করেন ডেবরার জনসভা থেকে জানিয়েছিলেন, ‘বাংলার যুবকদের বেরোজগার করেছেন ‘বিজেপি চায় পশ্চিমবঙ্গকে অনুপ্রবেশমুক্ত রাখতে, কিন্তু মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় চান অনুপ্রবেশকারীদের এখানে রাখতে।’ ‘অনুপ্রবেশকারীরা গরিব মানুষদের রোজগার নষ্ট করছে।’ ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় চান না, অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো হোক।’ ‘ভোটের পর এক এক জন অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে তাড়ানো হবে বাংলা থেকে।’












