শান্তিরবাজারের গর্ব আকিনচন সরকার - সংক্রান্ত ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদন
অভাবের সঙ্গে লড়াই করে শান্তিরবাজারের কাঞ্চননগর থেকে আইএএস হলেন আকিনচন সরকার। কৃষক পরিবারে বেড়ে ওঠা এই যুবকের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত গোটা এলাকা।
নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিরবাজার: অভাবকে সঙ্গী করেই বড় হয়ে ওঠা এক সাধারণ কৃষক পরিবারের ছেলে আজ দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পরিষেবায় নিজের নাম লিখিয়ে ইতিহাস গড়লেন। দক্ষিণ ত্রিপুরার শান্তিরবাজার মহকুমার কাঞ্চননগরের সন্তান আকিনচন সরকার আইএএস পরীক্ষায় সফল হয়ে গোটা এলাকার গর্বে পরিণত হয়েছেন। জানা গেছে, শান্তিরবাজার মহকুমা থেকে এই প্রথম কেউ আইএএস হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করলেন।
দুই ভাই ও তিন বোনের বড় সংসারে ছোটবেলা থেকেই অভাব ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। উদয়পুর রমেশ হাইস্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের হাল ধরতে ভাই সুজন সরকারের সঙ্গে জমিতে কৃষিকাজও করতেন আকিনচন। দিনের পরিশ্রম শেষে রাতে লন্ঠনের আলোয় পড়াশোনা চালিয়ে গেছেন তিনি। সেই কঠোর সংগ্রাম আর অদম্য জেদই আজ তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রশাসনিক পদে।
জানা গেছে, ২০০৩ সালে কমলপুর থেকে টিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন আকিনচন সরকার। পরে ২০০৯ সালে শান্তিরবাজার মহকুমা শাসক কার্যালয়ে ডিসিএম হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এরপর ২০১১ সালে ফাইনান্স ডিপার্টমেন্টের অ্যাডিশনাল সেক্রেটারি হিসেবে যোগ দেন। সরকারি চাকরির ব্যস্ততার মধ্যেও থেমে থাকেননি। নিয়মিত প্রস্তুতি চালিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত আইএএস পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করেন।
আইএএস ফল প্রকাশের পর আনন্দে ভেসেছে গোটা কাঞ্চননগর এলাকা। ছেলের সাফল্যের খবর শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তাঁর মা। প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীরাও আনন্দে মেতে ওঠেন। স্থানীয় প্রবীণদের কথায়, “আকিনচন প্রমাণ করে দিল, দরিদ্র পরিবার থেকেও কঠোর পরিশ্রম ও ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে দেশের সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছানো সম্ভব।”
আকিনচন সরকারের এই সাফল্য এখন শুধু তাঁর পরিবারের নয়, গোটা শান্তিরবাজার মহকুমার অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। তাঁর জীবনের লড়াই ও সাফল্যের গল্প নতুন প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে।
Save my name, email, and website in this browser for the next time I comment.