ত্রিপুরায় প্রথমবার ইউপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা –

0

আগরতলার উমাকান্ত একাডেমিতে প্রথমবার অনুষ্ঠিত হলো ইউপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। দেরিতে পৌঁছানো বহু পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পেরে হতাশ হন।

ত্রিপুরায় প্রথমবার ইউপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা -

ত্রিপুরায় প্রথমবার ইউপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা - সংক্রান্ত ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলার উমাকান্ত একাডেমিতে প্রথমবার অনুষ্ঠিত হলো ইউপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। দেরিতে পৌঁছানো বহু পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পেরে হতাশ হন।

মূল কথা: নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা  :  রবিবার কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কঠোর নিয়ম মেনেই শহরের উমাকান্ত একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হলো ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি)-র প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও…

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা  :  রবিবার কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কঠোর নিয়ম মেনেই শহরের উমাকান্ত একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হলো ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি)-র প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ও প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভিড় চোখে পড়ে।

পরীক্ষা পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষের তরফে আগেই জানানো হয়েছিল, সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশ সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অধিকাংশ পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে প্রবেশ করলেও শেষ মুহূর্তে বহু পরীক্ষার্থীকে তাড়াহুড়ো করে কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেখা যায়।

তবে সকাল ৯টার পর পৌঁছানো কোনো পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। ফলে বহু পরীক্ষার্থীকে হতাশ হয়ে কেন্দ্রের বাইরে থেকেই ফিরে যেতে হয়। কিছুক্ষণের জন্য কেন্দ্রগুলির বাইরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিও তৈরি হয়। এদিন প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে ছিল নজিরবিহীন নিরাপত্তা।

পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের পাশাপাশি প্রবেশপথে পরীক্ষার্থীদের পরিচয় যাচাই, শারীরিক তল্লাশি এবং নিষিদ্ধ সামগ্রী পরীক্ষা করা হয়। মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, ইলেকট্রনিক গ্যাজেট, ক্যালকুলেটরসহ বিভিন্ন সামগ্রী বহনে ছিল কড়াকড়ি।

পরীক্ষা পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা জানান, ইউপিএসসি-র নির্ধারিত নির্দেশিকা অনুসরণ করেই সময়সীমা ও নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়েছে, যাতে পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও সমতা বজায় থাকে। রাজ্যে এই প্রথমবার ইউপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আয়োজন হওয়ায় তা শুধুমাত্র একটি পরীক্ষা নয়, প্রশাসনিক ও শিক্ষাগত পরিকাঠামোর ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এতদিন এই পরীক্ষায় অংশ নিতে বহু পরীক্ষার্থীকে অন্য রাজ্যে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হতো, যার সঙ্গে যুক্ত থাকত অতিরিক্ত অর্থব্যয়, যাতায়াতের চাপ ও মানসিক প্রস্তুতির সমস্যা। এবার নিজ রাজ্যে পরীক্ষা আয়োজন হওয়ায় বহু পরীক্ষার্থী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

শিক্ষাবিদদের মতে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সর্বভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবায় যোগদানের আগ্রহ আরও বাড়াবে।ইউপিএসসি বা ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ নিয়োগকারী সংস্থা।

এই পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত হন ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষেবা (IAS), ভারতীয় পুলিশ পরিষেবা (IPS), ভারতীয় বিদেশ পরিষেবা (IFS) সহ কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এই পরীক্ষা মূলত তিন ধাপে সম্পন্ন হয়, প্রিলিমিনারি, মেইন এবং ব্যক্তিত্ব যাচাই বা ইন্টারভিউ।

প্রতিবছর লক্ষাধিক পরীক্ষার্থী আবেদন করলেও চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন খুবই সীমিত সংখ্যক প্রার্থী। ফলে এই পরীক্ষা শুধু প্রতিযোগিতামূলক নয়, দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি, মানসিক দৃঢ়তা এবং ধারাবাহিক পরিশ্রমেরও পরীক্ষা। এই ধরনের জাতীয় স্তরের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় সংস্থার পাশাপাশি রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পরীক্ষাকেন্দ্র নির্ধারণ, নিরাপত্তা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিষেবা সচল রাখা, সবক্ষেত্রেই স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হয়।পরীক্ষা শুরুর আগে কেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার প্রস্তুতি নেওয়া হয় এবং পরীক্ষার সময় যাতে কোনো অনিয়ম না ঘটে সেদিকেও নজর রাখা হয়।

যদিও পরীক্ষার কড়াকড়ি নিয়ে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট, তবুও সময়মতো পৌঁছাতে না পেরে পরীক্ষা দিতে না পারা বহু পরীক্ষার্থীর হতাশা ছিল চোখে পড়ার মতো।দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, মানসিক চাপ ও উচ্চপদে পৌঁছানোর স্বপ্ন, সবকিছু নিয়েই তারা পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছিলেন।

কিন্তু কয়েক মিনিটের বিলম্বই অনেকের কাছে পুরো বছরের প্রস্তুতিকে অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।অভিভাবকদের একাংশের দাবি, ভবিষ্যতে পরীক্ষার্থীদের জন্য সচেতনতা আরও বাড়ানো এবং সময়সূচি নিয়ে আগাম প্রচার জোরদার করা প্রয়োজন।

অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, জাতীয় পর্যায়ের পরীক্ষায় নির্ধারিত নিয়মের কোনো ব্যতিক্রম করা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে, রাজ্যে প্রথমবার ইউপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষার আয়োজন একদিকে যেমন নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে, তেমনি সময়ানুবর্তিতা ও পরীক্ষার শৃঙ্খলা নিয়েও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যক তরুণ-তরুণী এই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রশাসনের উচ্চপদে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখবেন, এমনটাই আশা সংশ্লিষ্ট মহলের।

Save my name, email, and website in this browser for the next time I comment.

শেয়ার করুন

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *