স্মার্ট সিটির খোঁড়াখুঁড়িতে ফাটল গ্যাস পাইপলাইন –

0

আগরতলার জগতপুরে স্মার্ট সিটি প্রকল্পের খননকাজ চলাকালীন গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত। চরম ভোগান্তির অভিযোগ তুলছেন শহরবাসী।

স্মার্ট সিটির খোঁড়াখুঁড়িতে ফাটল গ্যাস পাইপলাইন -

স্মার্ট সিটির খোঁড়াখুঁড়িতে ফাটল গ্যাস পাইপলাইন - সংক্রান্ত ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদন

আগরতলার জগতপুরে স্মার্ট সিটি প্রকল্পের খননকাজ চলাকালীন গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত। চরম ভোগান্তির অভিযোগ তুলছেন শহরবাসী।

মূল কথা: নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা  : আগরতলা শহরে চলমান বহু কোটি টাকার স্মার্ট সিটি উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে ফের সামনে এল পরিকল্পনাহীনতা, সমন্বয়হীনতা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ। সম্প্রতি আগরতলা পুরনিগমের উত্তর…

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা  : আগরতলা শহরে চলমান বহু কোটি টাকার স্মার্ট সিটি উন্নয়ন প্রকল্পকে ঘিরে ফের সামনে এল পরিকল্পনাহীনতা, সমন্বয়হীনতা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ। সম্প্রতি আগরতলা পুরনিগমের উত্তর জোনের জগতপুর এলাকায় নিকাশি নালা নির্মাণের জন্য খননকাজ চলাকালীন একটি ড্রজার মেশিনের আঘাতে ভূগর্ভস্থ রান্নার গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং কয়েকশো পরিবার দীর্ঘ সময় গ্যাস পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্মার্ট সিটি প্রকল্পের অধীনে কভারড্রেন নির্মাণের কাজ চলছিল। অভিযোগ উঠেছে, প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি ম্যাপিং, ভূগর্ভস্থ পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্য যাচাই এবং গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই ভারী যন্ত্র দিয়ে খনন শুরু করা হয়েছিল।

ফলেই খননের সময় সরাসরি পাইপলাইনে আঘাত লাগে এবং দ্রুত গতিতে গ্যাস লিক শুরু হয়।জগতপুরের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ঘটনা ঘিরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা দ্রুত টিএনজিসিএল কর্তৃপক্ষকে খবর দিলে সংস্থার প্রযুক্তিগত দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে দীর্ঘ সময় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় বড়সড় প্রভাব পড়ে।সকালের ব্যস্ত সময়ে রান্নার কাজে সমস্যায় পড়েন বহু গৃহিণী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উন্নয়নের নামে শহরজুড়ে একসঙ্গে এত প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও বাস্তবে তার কোনো কার্যকর সমন্বয় নেই। বর্তমানে আগরতলায় একদিকে কভারড্রেন নির্মাণ, অন্যদিকে আন্ডারগ্রাউন্ড বিদ্যুতায়ন, রাস্তা সংস্কার ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন সব কাজ একসঙ্গে চললেও কোন দপ্তর কখন কোথায় কাজ করছে, তা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে কার্যত বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। নাগরিকদের একাংশের বক্তব্য, একটি রাস্তা ড্রেন তৈরির জন্য কাটা হচ্ছে, কয়েকদিন পর একই রাস্তা আবার বিদ্যুৎ লাইনের কাজের জন্য খোঁড়া হচ্ছে।

কোথাও গ্যাস সংস্থা, কোথাও জল সরবরাহ বিভাগ, কারও সঙ্গে কারও সমন্বয়ের চিত্র চোখে পড়ছে না। ফলে উন্নয়নের গতি যতটা না বাড়ছে, তার চেয়ে বেশি বাড়ছে জনদুর্ভোগ।উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রথম নয়। কয়েকদিন আগেও মোটরস্ট্যান্ড এলাকায় নির্মাণকাজ চলাকালীন গ্যাস পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় চার ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল।

সেই সময়ও সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন। কিন্তু পরপর এমন ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সমাধান বা জবাবদিহির স্পষ্ট উদ্যোগ চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ।টিএনজিসিএল-এর এক আধিকারিকও স্বীকার করেছেন, শহরে অবকাঠামো নির্মাণের সময় গ্যাস ও অন্যান্য পরিষেবা লাইনের ক্ষতি হওয়ার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে।

উন্নয়ন প্রয়োজন, কিন্তু তা যেন নাগরিকদের দুর্ভোগের কারণ না হয়, সেই লক্ষ্যে সব সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও দায়িত্বশীলতা জরুরি বলেও মত তাঁর। এদিকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। নাগরিক মহলের একাংশের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ের বাস্তব সমস্যার সমাধানের বদলে উন্নয়নের সাফল্য নিয়ে বক্তৃতা ও প্রচারেই বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।

অথচ বাস্তবে রাস্তা কাটা, যানজট, পরিষেবা ব্যাহত হওয়া এবং বারবার জনভোগান্তির চিত্র শহরবাসীর দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠছে। জগতপুরের এই ঘটনা তাই শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, বরং আগরতলার চলমান স্মার্ট সিটি প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পনা, নজরদারি এবং আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয়ের ঘাটতির দিকেই নতুন করে আঙুল তুলছে।

এখন দেখার, প্রশাসন এই ঘটনাকে সতর্কবার্তা হিসেবে নেয়, নাকি উন্নয়নের নামে নাগরিক দুর্ভোগের এই চক্র চলতেই থাকে।

Save my name, email, and website in this browser for the next time I comment.

শেয়ার করুন

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *